• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • কমলনগরে ‎মেঘনায় জেগে ওঠা নতুন চরে দখলের শঙ্কা, জমি ফেরত চান ভাঙ্গন কবলিত কৃষকেরা | দৈনিক সময়ের নুর ডট কম 

     Daily Somoyernur 
    10th Oct 2026 3:15 am  |  অনলাইন সংস্করণ

    জেগে উঠা চরের ছবি 

    লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার দক্ষিণ জগবন্ধু এলাকায় মেঘনা নদীতে জেগে উঠেছে নতুন একটি বড় চর। দীর্ঘদিন নদীভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানো কৃষকদের মধ্যে নতুন করে জমি ফিরে পাওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। তবে চরটি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকেরা।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, নতুন চরের উর্বর মাটিতে ইতিমধ্যে সবুজ ঘাস জন্মেছে। একসময় যেসব এলাকায় তাঁদের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ছিল, নদীর গতিপথ পরিবর্তনের পর সেসব এলাকার কিছু অংশে নতুন করে চর জেগে উঠছে। এতে বহু বছর আগে জমি হারানো পরিবারগুলোর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে নতুন চরকে কেন্দ্র করে মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, কমলনগরের কটোরিয়া ও কাঁকড়ার চর এলাকায় প্রায় পাঁচ বছর আগে জেগে ওঠা আনুমানিক ৬০০ একর চর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ‘মাতব্বর’ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সম্প্রতি ওই চর ভোলার চরফ্যাশনের বাসিন্দা সকেট জামালের কাছে এক বছরের জন্য ৩৪ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

    স্থানীয় ভূমিমালিকদের দাবি, দক্ষিণ জগবন্ধু এলাকায় প্রায় তিন বছর ধরে জেগে ওঠা নতুন চরটিও একই গোষ্ঠী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁদের বক্তব্য, ওই চরে গোষ্ঠীটির কোনো বৈধ মালিকানা নেই। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও সামনে এসেছে।

    ‎ সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সাল থেকে মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে কমলনগর উপজেলার প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকার বসতভিটা ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালের দিকে চর কালকিনি ও সাহেবেরহাট ইউনিয়নের বড় একটি অংশ নদীতে হারিয়ে যায়। একইভাবে চর ফলকন, পাটওয়ারীর হাট ও চর লরেন্স ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাও ভাঙনের শিকার হয়।

    দীর্ঘ ময়াদী এ ভাঙনের ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে বহু পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এখন নতুন চর জেগে ওঠায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকেরা তাঁদের হারানো জমি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ জরিপ ও সরকারি সিদ্ধান্তের আগেই প্রভাবশালী কেউ চরটির নিয়ন্ত্রণ নিলে প্রকৃত ভূমিমালিকেরা আবারও বঞ্চিত হতে পারেন।
    ‎

    জমি ফিরে পাওয়া এবং কথিত জবরদখল ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ‘চর জগবন্ধু, ফলকন ও পাটওয়ারীর হাট ভূমিমালিক ঐক্য পরিষদ’ গঠন করেছেন। তাঁদের লক্ষ্য, প্রকৃত ভূমিমালিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং চাষাবাদের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
    ‎

    দক্ষিণ জগবন্ধু ভূমিমালিক সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন রিয়াজ বলেন, সাহেবেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ জগবন্ধুর নিজস্ব সীমানায় নতুন চরটি জেগে উঠেছে। এতে মাতব্বর গোষ্ঠীর কোনো জমি নেই বলে তাঁদের দাবি। প্রকৃত ভূমিমালিকেরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে চাষাবাদ করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা কাজ করছেন।

    ‎পাটওয়ারীর হাট ইউনিয়নের ভূমিমালিক সমিতির নেতা জাহাঙ্গীর মেম্বার বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জগবন্ধু, ফলকন ও পাটওয়ারীর হাট এলাকার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী জমিগুলো জোরপূর্বক ভোগদখলের চেষ্টা করছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

    সাহেবেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে মাতব্বর গোষ্ঠী একটি চর দখল করে সুবিধা নিয়েছে। এবারও প্রকৃত ভূমিমালিকদের বঞ্চিত করে দক্ষিণ জগবন্ধুর নতুন চরটি দখলের চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাতব্বর পরিবারের পক্ষে খোকন মাতব্বর। তাঁর দাবি, বর্তমানে তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকা চরে তাঁদের পূর্বপুরুষ ও আত্মীয়স্বজনের চাষাবাদের জমি রয়েছে। নতুন করে জেগে ওঠা চরটিতেও তাঁদের বসতবাড়ি ছিল। এ কারণে ওই চরের ওপর তাঁদের দাবি থাকা স্বাভাবিক বলে তিনি মনে করেন।

    ৩৪ লাখ টাকায় চর ইজারা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে খোকন মাতব্বর বলেন, সেখানে অন্য কারও জমি নেই। তাই সেখানে তাঁরা যা করেন, তা তাঁদের নিজস্ব বিষয়।

    ‎এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, চরটি পুরোপুরি জেগে উঠলে জরিপ পরিচালনা করা হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। তার আগে চরের ওপর কারও মালিকানা দাবি করার সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ‎নতুন চরকে ঘিরে বিরোধের আশঙ্কার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকেরা দ্রুত সরকারি জরিপ, জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিরপেক্ষ উদ্যোগে নতুন চর নিয়ে বিরোধের অবসান হবে এবং নদীভাঙ্গনে সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলো ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবে।

    Array
    আমাদের ওয়েবসাইটে কোন কনটেন্ট ভালো লাগলে প্রচারের স্বার্থে শেয়ার করতে পারেন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    October 2026
    M T W T F S S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031