• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • জীবন নিয়ে হতাশ? ঘুরে দাঁড়াতে এই ৫টি সিনেমা দেখুন | দৈনিক সময়ের নুর ডট কম 

     Daily Somoyernur 
    23rd Sep 2026 8:53 am  |  অনলাইন সংস্করণ

    বিনোদন ডেস্ক :

    জীবন নিয়ে হতাশ? ঘুরে দাঁড়াতে এই ৫টি সিনেমা দেখুন
    মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি তার স্বপ্ন। কিন্তু স্বপ্ন দেখা যত সহজ, তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ততটাই কঠিন। জীবনের পথে আসে হতাশা, ব্যর্থতা, দারিদ্র্য, সামাজিক বাধা, আত্মবিশ্বাসের সংকট এবং অসংখ্য না-পারা। তবু কিছু মানুষ হাল ছাড়ে না। সেই মানুষগুলোর গল্পই বারবার ফিরে আসে সিনেমার পর্দায়। কখনও বাস্তব ঘটনা হয়ে, কখনও কাল্পনিক চরিত্রের মধ্য দিয়ে।

    বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া অনেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্যই হলো স্বপ্নপূরণ। এসব সিনেমা শুধু বক্স অফিসে সফল হয়নি; তারা হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। ছাত্র, তরুণ উদ্যোক্তা, ক্রীড়াবিদ কিংবা সাধারণ একজন মানুষ। যে কেউ নিজের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে নিতে পারেন এই গল্পগুলোতে।

    নিচে থাকছে এমন ৫টি হিট সিনেমা তালিকা। এই সিনেমাগুলো প্রমাণ করে হতাশা কাটিয়ে উঠার বিকল্প নেই। প্রাণশক্তি, আত্মবিশ্বাস ও সাহস নিয়ে নিজের স্বপ্নের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখতে হয়।

    ১. The Pursuit of Happyness (২০০৬): হার না মানার সবচেয়ে সত্য গল্প
    উইল স্মিথ অভিনীত এই চলচ্চিত্রকে অনেকে পৃথিবীর সবচেয়ে অনুপ্রেরণামূলক সিনেমা বলে মনে করেন। বাস্তব চরিত্র ক্রিস গার্ডনারের জীবনের ওপর নির্মিত ছবিটি শুরু হয় এক সংগ্রামী বিক্রয়কর্মীর জীবন দিয়ে। যার হাতে আছে অসম্ভব কঠিন একটি স্বপ্ন। নিজের ছেলের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে চান তিনি। একসময় ক্রিস চাকরি হারান, বাড়িভাড়া দিতে না পেরে রাস্তায় নেমে আসেন, এমনকি একসময় ছেলে নিয়ে আশ্রয় নেন পাবলিক টয়লেটে। কিন্তু সবচেয়ে অসাধারণ বিষয় হলো তিনি কখনও নিজের লক্ষ্য থেকে চোখ সরান না। স্টক ব্রোকার হওয়ার জন্য বিনা বেতনের ইন্টার্নশিপ করেন, দিনের পর দিন ক্ষুধা আর অপমান সহ্য করেন।

    এই সিনেমা শেখায়, সফল মানুষ আর ব্যর্থ মানুষের পার্থক্য অনেক সময় প্রতিভায় নয়, বরং অবিচল থাকার ক্ষমতায়। শেষ দৃশ্যের সেই নীরব হাসি যেন বলে সব কষ্ট একদিন মূল্য পায়। এই সিনেমাটি আপনাকে শিক্ষা দেবে- পরিস্থিতি নয়, মানসিকতাই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

    ২. Rocky (১৯৭৬): জয়ের চেয়ে বড় হলো লড়াই
    সিলভেস্টার স্ট্যালোনের তৈরি ‘রকি’ শুধু একটি স্পোর্টস সিনেমা নয়; এটি সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। ফিলাডেলফিয়ার দরিদ্র এক বক্সার হঠাৎ সুযোগ পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অ্যাপোলো ক্রিডের বিরুদ্ধে লড়াই করার। রকি জানে, সবাই তাকে হারবে বলেই ধরে নিয়েছে। তবু সে রিংয়ে ওঠে একটি লক্ষ্য নিয়ে। সেটা হলো শেষ ঘণ্টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা। এই দর্শনই সিনেমাটিকে অসাধারণ করে তুলেছে। এখানে বিজয় মানে প্রতিপক্ষকে হারানো নয়; নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করা। আজও অসংখ্য ক্রীড়াবিদ ও তরুণের কাছে ‘রকি’ অনুশীলন, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। কখনও কখনও সবচেয়ে বড় জয় হলো হাল না ছাড়া, এই শিক্ষাটাই দেবে ছবিটি।

    ৩. 3 Idiots (২০০৯): নিজের স্বপ্নে বিশ্বাস রাখার গল্প
    রাজকুমার হিরানির এই ভারতীয় ব্লকবাস্টার দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের ভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তিন বন্ধুর গল্পের মধ্য দিয়ে ছবিটি প্রশ্ন তোলে, আমরা কি নিজের স্বপ্ন পূরণ করছি, নাকি অন্যের প্রত্যাশা? র‌্যাঞ্চো চরিত্রটি প্রচলিত সফলতার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। সে বলে, ‘সফলতার পেছনে ছুটো না, যোগ্যতার পেছনে ছুটো; সফলতা নিজেই আসবে।’ এই সংলাপ শুধু জনপ্রিয় হয়নি, অনেকের জীবনের দর্শন হয়ে গেছে। চাপ, প্রতিযোগিতা, পরিবার ও ক্যারিয়ার; সবকিছুর মাঝেও নিজের ভালো লাগাকে গুরুত্ব দেওয়ার সাহস যোগায় এই সিনেমা। ছবিটির মূল শিক্ষা হলো প্যাশন ছাড়া অর্জিত সাফল্য কখনও পূর্ণতা দেয় না।

    ৪. The Secret Life of Walter Mitty (২০১৩): কল্পনা থেকে বাস্তবের পথে
    ওয়াল্টার মিটি এমন একজন মানুষ বাস্তবের চেয়ে কল্পনার জগতে বেশি বাস করেন। অফিসের সাধারণ কর্মচারী হলেও মনে মনে তিনি অসাধারণ সব অভিযানে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু একদিন একটি ছোট দায়িত্বই তাকে সত্যিকারের পৃথিবী ঘুরে দেখার সাহস দেয়। আইসল্যান্ডের পাহাড়, হিমালয়ের তুষার, সমুদ্রের ঝড়। প্রতিটি দৃশ্য যেন দর্শককে মনে করিয়ে দেয়, জীবন অপেক্ষা করে না। নিরাপদ জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে না এলে নতুন কিছু পাওয়া যায় না। এটি এমন এক সিনেমা, যা বিশেষ করে তাদের জন্য, যারা দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্বপ্নকে শুধু ভাবছেন কিন্তু শুরু করতে পারছেন না। সিনেমাটি আমাদের এই উপলব্দি দেয় যে, জীবনের সবচেয়ে বড় অভিযাত্রা শুরু হয় প্রথম পদক্ষেপ থেকে।

    ৫. Hidden Figures (২০১৬): অদৃশ্য নায়িকাদের দৃশ্যমান জয়
    নাসার তিন কৃষ্ণাঙ্গ নারী গণিতবিদ ক্যাথরিন জনসন, ডরোথি ভন ও মেরি জ্যাকসনের বাস্তব কাহিনি নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক অবহেলিত অধ্যায় তুলে ধরে। ষাটের দশকের আমেরিকায় বর্ণবৈষম্য ও লিঙ্গবৈষম্যের মধ্যে থেকেও তারা মহাকাশ গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখেন। ক্যাথরিনের গণনা ছাড়া জন গ্লেনের মহাকাশযাত্রা সম্ভব হতো না। তবু সমাজ তাকে সমান মর্যাদা দিতে চায়নি। এই সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো, এটি দেখায় প্রতিভা কখনও রঙ বা লিঙ্গ দেখে জন্মায় না; সুযোগটাই পার্থক্য গড়ে দেয়। সাহসীদের প্রতিভাকে আটকে রাখা যায় না, এটাই সিনেমাটির মূল শিক্ষা।

    কেন দেখবেন
    এই চলচ্চিত্রগুলোর চরিত্রেরা কেউ বক্সার, কেউ গণিতবিদ, কেউ ছাত্র, কেউ চাকরিজীবী। তাদের দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতিও আলাদা। কিন্তু একটি জায়গায় তারা এক হয়ে যায়। সেটা হলো তারা বিশ্বাস করে অসম্ভব বলে কিছু নেই। বর্তমান সময়ে যখন তরুণদের বড় একটি অংশ ক্যারিয়ার, প্রতিযোগিতা ও অনিশ্চয়তার চাপে ক্লান্ত, তখন এসব সিনেমা শুধু বিনোদন দেয় না; নতুন করে ভাবতে শেখায়। ব্যর্থতা যে শেষ নয়, নিজের পথ নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়, আর স্বপ্ন পূরণ মানে শুধু সাফল্য নয় বরং মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠাও- এই উপলব্ধিই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

    Array
    আমাদের ওয়েবসাইটে কোন কনটেন্ট ভালো লাগলে প্রচারের স্বার্থে শেয়ার করতে পারেন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    November 2026
    M T W T F S S
     1
    2345678
    9101112131415
    16171819202122
    23242526272829
    30