ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, চলবে কূটনৈতিক আলোচনাও
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো হবে, নাকি আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এ বিষয়ে তাকে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করা হবে কি না, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠিত হয়ে আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। চুক্তি না হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত ধ্বংস করার পথও বেছে নিতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে দূরে রেখেছে। তিনি এটিকে তার ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ নীতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভাষণের বড় একটি অংশজুড়ে ইরান প্রসঙ্গ থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলছে।
ইরান প্রসঙ্গের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিগগিরই যুদ্ধটির অবসান ঘটানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এআই নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উদ্যোগের সমালোচনা করে প্রযুক্তিটির বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের পক্ষেও মত দেন ট্রাম্প।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। ভাষণে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর জোর দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কিউবার সরকারকেও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। দেশটিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করার সময় কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। একই সময়ে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে একটি চুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়।
তবে ট্রাম্পের ভাষণের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল ইরানকে দেওয়া সরাসরি হুঁশিয়ারি। তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনো চুক্তি হবে, যা তাদের পুনর্গঠন করতে এবং আগের চেয়েও শক্তিশালী দেশে পরিণত হতে দেবে? নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেব—এবং তা দ্রুত করব, যাতে তারা আর কখনো মানুষ ও দেশকে হত্যা বা ধ্বংস করার সুযোগ না পায়?”
ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একদিকে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা—দুই ধারাই একই সঙ্গে এগোচ্ছে।
Array