বার্সেলোনার বড় জয়ে আলোচনায় ইয়ামালের ‘অলমোস্ট-রাবোনা’ ড্রিবলিং | দৈনিক সময়ের নুর ডট কম
ছবি : সংগৃহীত
স্পোর্টস ডেস্ক :
গালাতাসারায়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ৪-১ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই ম্যাচে গোল না পেলেও দুর্দান্ত নৈপুণ্যে আলো ছড়িয়েছেন স্প্যানিশ তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর অভিনব ড্রিবলিং কৌশল এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে।
প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে গিয়ে ইয়ামাল এমন এক কৌশল দেখিয়েছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘অলমোস্ট-রাবোনা’। ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডনের গোলের আগে এই কৌশল প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে বিভ্রান্ত করেন তিনি। এরপর বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্টে জায়গা তৈরি করে সতীর্থকে গোলের সুযোগ করে দেন বার্সেলোনার এই তরুণ।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ফারমিন লোপেজকে নিখুঁত ক্রসে গোল করানোর পর গর্ডনের জন্যও সুযোগ তৈরি করেন ইয়ামাল। গর্ডনের গোলের আগের মুহূর্তে রাবোনা শটের ভঙ্গি করে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করেন তিনি। তবে সরাসরি শট না নিয়ে বলটি বাইলাইন বরাবর এগিয়ে নেন। বল প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে ভেতরের দিকে ঢুকে পড়েন ইয়ামাল। তাঁর বাড়ানো বল থেকেই গোল করেন গর্ডন।
ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুভিস্টারকে ইয়ামাল বলেন, ‘এটার কী নাম দেওয়া যায়, আমি জানি না। এটা ছিল অলমোস্ট-রাবোনা ড্রিবলিং। গর্ডনকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দিতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত কৌশলটা কার্যকর হয়েছে।’
নিজের এই বিশেষ কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইয়ামাল জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে তিনি সব সময় নতুন নতুন উপায় খোঁজেন। সিবিএসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনার সাবেক ফরোয়ার্ড থিয়েরি অঁরির কাছে নিজের কৌশলের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।
ইয়ামালের ভাষ্য, বাইলাইনে পৌঁছানোর পর প্রতিপক্ষের অনেক খেলোয়াড় তাঁকে থামাতে মাটিতে পড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানেই সুযোগ দেখে নতুন কৌশলটি প্রয়োগ করেছেন তিনি, যা শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জায়গা তৈরি করতে আমি সব সময় প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করি। এভাবে সামান্য জায়গা তৈরি করতে পারলেও আমাদের মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য সেটা অনেক বড় সুবিধা। কৌশলটা সুন্দর ছিল, একই সঙ্গে কার্যকরও। তাই আমি খুব খুশি।’
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ইয়ামাল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে তাঁর গোল আটটি। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও নয়টি গোল। অর্থাৎ গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে দলের ১৭টি গোলে অবদান রেখেছেন এই তরুণ তারকা।
গালাতাসারায়ের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকও। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জার্মান এই কোচ বলেন, দ্বিতীয়ার্ধে ইয়ামাল অসাধারণ খেলেছেন। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্লিকের ভাষায়, ‘দ্বিতীয়ার্ধে সে ছিল অসাধারণ। যেভাবে সে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে, শেষ পাস দিয়েছে—সবকিছুই অবিশ্বাস্য। সে যা করছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
গালাতাসারায়ের মাঠে এই জয় চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার টানা দশম জয়। এর মধ্যে লা লিগায় আটটি এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে দুটি জয় পেয়েছে কাতালান ক্লাবটি। এই দশ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৪৩ গোল করেছে তারা।
টানা সাফল্যে আত্মবিশ্বাসী ইয়ামাল এবার মৌসুমের তিনটি বড় শিরোপা জিতে ট্রেবল অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন। লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও কোপা দেল রে—তিন প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জবাব দেন তিনি।
সিবিএসকে ইয়ামাল বলেন, ‘সব সময়ই। আমরা বার্সেলোনা, আমরাই বিশ্বের সেরা দল।’
তবে শিরোপার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বার্সেলোনাকে সামনে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। শনিবার লা লিগায় তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল বেতিসের মাঠে খেলবে দলটি। এরপর আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ফ্রান্সে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের মুখোমুখি হবে কাতালানরা। পরের রোববার মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় নিজেদের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে আতিথ্য দেবে বার্সেলোনা।
টানা জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ইয়ামালরা এই কঠিন পরীক্ষাগুলো উতরে যেতে পারেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে গালাতাসারায়ের বিপক্ষে তাঁর অভিনব ড্রিবলিং আবারও প্রমাণ করেছে, প্রতিপক্ষের রক্ষণে সামান্য ফাঁক পেলেও সেটিকে কাজে লাগানোর অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে এই তরুণ তারকার।
