• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোরতা ও সুশাসন জরুরি | দৈনিক সময়ের নুর ডট 

     Daily Somoyernur 
    22nd Sep 2026 7:07 am  |  অনলাইন সংস্করণ

    বিশেষ প্রতিবেদক :

    খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোরতা ও সুশাসন জরুরি
    দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা। ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে ব্যাংকিং খাতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

    বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা।

    ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাঁদের বিদেশযাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সীমিত করা এবং ঋণ আদায়ে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। তবে এসব ব্যবস্থা অবশ্যই আইন, আদালতের নির্দেশনা ও ন্যায্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুরোনো তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের খেলাপি ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঋণ অবলোপনের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ অবলোপনের ফলে হিসাবের খাতায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম দেখা গেলেও ব্যাংকের প্রকৃত পাওনা আদায়ের বিষয়টি থেকে যায়।

    সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধানও একসময় মন্তব্য করেছিলেন, ঋণ অবলোপন করলেই সমস্যার সমাধান হয় না; বরং অবলোপন করা ঋণ আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, অবলোপন করা ঋণের বিপরীতেও ব্যাংকগুলোকে আদায়ের জন্য মামলা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হয়েছে।

    ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ঋণ বিতরণে অনিয়ম, যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি, দুর্বল তদারকি এবং দীর্ঘসূত্রতাকে বিভিন্ন সময়ে দায়ী করেছেন

    বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপ, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম এবং ঋণ আদায়ে দুর্বলতা থাকলে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ধরনের সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও গবেষণা হয়ে আসছে।
    খেলাপি ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সঞ্চিতি

    সংরক্ষণ করতে গিয়ে কোনো কোনো ব্যাংক মূলধন ঘাটতির মুখেও পড়ে। এর ফলে ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত আমানতকারী ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণ কমাতে হলে শুধু ঋণ আদায়ের ওপর জোর দিলেই হবে না; ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়াটিকেও শক্তিশালী করতে হবে। ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসার প্রকৃতি, জামানত ও ঋণ পরিশোধের সম্ভাবনা যথাযথভাবে যাচাই করে ঋণ অনুমোদন করতে হবে। একই সঙ্গে ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও স্বচ্ছ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি বড় ঋণগুলোর ওপর নিবিড় নজরদারি প্রয়োজন। এতে নতুন করে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

    অর্থপাচারের অভিযোগও ব্যাংকিং খাতের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির বিভিন্ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচারের ঝুঁকির কথা উঠে এসেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট খেলাপি ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে—এমন দাবি করতে হলে পৃথক তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।

    ব্যাংক মূলত আমানতকারীদের অর্থের ওপর নির্ভর করে ঋণ বিতরণ করে। তাই ঋণখেলাপির সমস্যা শুধু একটি ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে

    আমানতকারী, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক রয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা চলতে থাকলে ব্যাংকের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি জনগণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    সুতরাং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা, ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা, অবলোপন করা ঋণের কার্যকর আদায়, ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহি এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ—সবগুলো বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

    একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রেও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত ব্যবসায়িক কারণে সাময়িক সমস্যায় পড়া ঋণগ্রহীতা এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের মধ্যে যথাযথ পার্থক্য করা যায়।

    ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে খেলাপি ঋণের লাগাম টানা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের মত।

    Array
    আমাদের ওয়েবসাইটে কোন কনটেন্ট ভালো লাগলে প্রচারের স্বার্থে শেয়ার করতে পারেন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    November 2026
    M T W T F S S
     1
    2345678
    9101112131415
    16171819202122
    23242526272829
    30