• ঢাকা, বাংলাদেশ

সুবর্ণচরে এক ইউনিয়ন থেকেই প্রতিদিন বিক্রি হয় দুই কোটি টাকার শিম | সময়ের নুর নিউজ ডট কম 

 somoyernurnews 
06th Feb 2024 3:21 am  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর শস্য ভাণ্ডার নামে খ্যাত সুবর্ণচর উপজেলায় শত শত হেক্টর জমিতে শুধু শিম চাষ হয়। যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই শিম আর শিম। যেন শিমের রাজ্য সূবর্ণচর!

এবার  উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় শিম চাষ করে এখন হাজারও চাষির মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষি বিভাগ বলছে, প্রতিদিন এই ইউনিয়ন থেকে দুই কোটি টাকার শিম সারাদেশে যায়। আর দাম ভালো পাওয়ায় এখানকার কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে।

সরেজমিনে পুরো মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জুড়ে পিচঢালা সড়ক অথবা মেঠোপথ দিয়ে এগোলে দুই পাশে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চোখে পড়ে শিম ক্ষেত। বিস্তীর্ণ মাঠ, জমি ও ঘেরের আইলে সর্জন পদ্ধতিতে মাচায় শিম চাষ করা হয়েছে।

এখন মৌসুমের শেষ সময়। তবুও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমি পরিচর্যা, শিম তোলা, বাজারজাত করাসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। যদিও এ পর্যন্ত কয়েক দফা শিমের ফলন তোলা হয়েছে। তবে এখনও ফুল আসায় ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত প্রায় একইরকম ফলন হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, সুবর্ণচরে চলতি শীত মৌসুমে মোহাম্মদপুর ও চরক্লার্ক ইউনিয়নে চার হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ করেছেন সহস্রাধিক চাষি। প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ২৫ টন করে প্রায় পাঁচ হাজার ২৫০ টন শিম উৎপাদন হবে।

বর্তমানে বাজারে শিমের ভালো দাম রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে দুই কোটি টাকার শিম সারাদেশে যাচ্ছে। এক মৌসুমে শতকোটি টাকার শিম বিক্রি হয়। আগে বাড়ির আঙ্গিনায় সীমিত পরিসরে শিম চাষ করা হতো। এখন চাহিদা বেড়েছে, ফলনও বেড়েছে।

কৃষক জহিরউদ্দিন আমাদেরকে বলেন, একেকজন চাষি আট একর দশ একর করে শিম চাষ করে। আমি এ বছর এক একর আবাদ করেছি। দাম পেয়েছি দুই লাখ টাকা। আমার খরচ হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। আমাদের শিমগুলো বিভিন্ন জেলায় যায়। আমরা শিমের দাম ভালো পাচ্ছি।

কৃষক মিলন মিয়া আমাদেরকে বলেন, সব থেকে বেশি শিম মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে উৎপাদন হয়। শিমের দাম যেমন পাচ্ছি, শিমের বিচির দামও পাচ্ছি। আমাদের এখানে আড়ৎ থাকায় বিক্রি ভালো হচ্ছে। আমরা লাভবান হচ্ছি এটাই বড় কথা। প্রতিদিন ৭-৮ লাখ টাকার শিম সারাদেশে পাঠান উদ্যোক্তা মো. সিরাজ উদ্দিন। তিনি  বলেন, আমাদের প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার শিম উঠতেসে। এসব শিম ঢাকা, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, নরসিংদীসহ সারাদেশে যাচ্ছে। শিমের বিচির চাহিদা প্রচুর।

সরকারিভাবে যদি এসব বিচি বিদেশে রপ্তানি হতো তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো। এছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো নয় বলে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে যায়। যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হলে কৃষক আরও বেশি লাভবান হতো।

সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হারুন অর রশিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, সুবর্ণচরে চলতি শীত মৌসুমে মোহাম্মদপুর ও চরক্লার্ক ইউনিয়নে চার হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ করেছেন সহস্রাধিক চাষি। তাকালে মনে হয় শিমের রাজ্য। চোখ জুড়িয়ে আসে। প্রতিদিন গড়ে দুই কোটি টাকার শিম সারাদেশে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহীদুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, নোয়াখালীতে সব থেকে বেশি শিমের আবাদ হয় সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুর ও চরক্লার্ক ইউনিয়নে। এখানকার শিম ও শিমের বিচি সারাদেশে যায়। শিমের বিচি বিদেশেও রপ্তানি হয়। এই অঞ্চলগুলো লবণাক্ত হওয়ায় আগে ফসল হতো না। এখন শিমের আবাদ ভালো হওয়ায় ভবিষ্যতে শিম চাষের বিপ্লব ঘটবে বলে মনে করছি।

[social]
We use all content from others website just for demo purpose. We suggest to remove all content after building your demo website. And Dont copy our content without our permission.
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
এই বিভাগের আরও খবর
 
Jugantor Logo
ফজর ৫:০৫
জোহর ১১:৪৬
আসর ৪:০৮
মাগরিব ৫:১১
ইশা ৬:২৬
সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১
সারাবাংলা