
ফয়সালের পাশে দাঁড়িয়ে মতামত দিচ্ছেন যুবক
নিজস্ব প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের ঊষিয়ারকান্দি গ্রামে প্রবাসী তিন ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধের জেরে এক প্রতিবেশীকে মিথ্যা চাঁদাবাজি ও মাদক মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
প্রবাসীদের অনুরোধে বিরোধ মেটাতে গিয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় অভিযোগের শিকার হয়েছেন ফয়সাল আনসারি নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঊষিয়ারকান্দি গ্রামের আবদুল ব্যাপারি বাড়ির নোমান, নাহিদ ও নিলয় নামের তিন ভাই জীবিকার তাগিদে প্রবাসে থাকেন। মেজ ভাই নাহিদই বাকি দুই ভাইকে প্রবাসে নিয়ে যান। বাড়িতে তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা বসবাস করেন। সম্প্রতি পারিবারিক মনমালিন্যের জেরে বড় ভাই নোমানের স্ত্রী শামিমা আক্তার নাসরিন নিজের ঘরে তালা ঝুলিয়ে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় চলে যান।
গত ২৮ জুন (রবিবার) সকালে তিনজন নির্মাণ শ্রমিক কাউকে কিছু না জানিয়ে আচমকা ওই তিন ভাইয়ের বাড়ির ছাদে উঠে কাজ শুরু করেন। বাড়িতে থাকা মেজ ভাই নাহিদের স্ত্রী ও তার বাবার বাড়ির লোকজন অচেনা শ্রমিকদের দেখে পরিচয় জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নাহিদের স্ত্রী প্রবাসে থাকা স্বামীকে বিষয়টি জানান। এরপর মেজ ভাই নাহিদ প্রবাস থেকে মুঠোফোনে তাদের পাশের বাড়ির চাচা ফয়সাল আনসারিকে বিষয়টি অবহিত করেন। ফয়সাল আনসারি একই গ্রামের খন্দকার বাড়ির মৃত খসরু আনসারির ছেলে। নাহিদ তার চাচা ফয়সালকে অনুরোধ করেন যেন তিনি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে বলেন এবং ছাদে ওঠার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। প্রবাসী মেজ ভাইয়ের অনুরোধে ফয়সাল আনসারিসহ ওই বাড়ির কয়েকজন বাসিন্দা এগিয়ে আসেন। তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালান। তবে বড় ভাই প্রবাসী নোমান প্রবাস থেকে এই বিষয়ে কাউকে কথা না বলার জন্য নিষেধ করেন।
এই ঘটনার পর বড় ভাইয়ের স্ত্রী শামিমা আক্তার নাসরিন বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় ফয়সাল আনসারিকে প্রধান অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ফয়সাল আনসারিকে ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে এই অভিযোগের কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, ফয়সাল আনসারি একজন সম্মানিত ব্যক্তি। প্রবাসীদের পারিবারিক অনুরোধে এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি সেখানে কথা বলতে গিয়েছিলেন। তাকে এভাবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেয় প্রতিপন্ন করায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।এদিকে বড় ভাই নোমানের ঘরে তালা ঝুলতে থাকায় এবং তাহার স্ত্রীর ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এবিষয়ে তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, “একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”