চন্দ্রগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক ৪ লেন সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও খাল ভরাটের অভিযোগ | দৈনিক সময়ের নুর ডট কম

নিজস্ব প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের গুরুত্বপূর্ণ চন্দ্রগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক ৪ লেন সড়কের চলমান উন্নয়নকাজে নানা অনিয়ম,দুর্নীতি ও খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে।

দুই প্যাকেজে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা সিডিউল ও ম্যাপ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রথম প্যাকেজের আওতায় চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার থেকে মান্দারী বাজারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত জালাল মিয়ার ব্রিজ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় জালাল মিয়ার ব্রিজ এলাকা থেকে লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজ চলছে।

প্রথম প্যাকেজে অনিয়মের স্থানীয়দের অভিযোগ, চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার থেকে জালাল মিয়ার ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাপ অনুসরণ করা হচ্ছে না। একেক স্থানে একেক ধরনের প্রস্থ রেখে কাজ করা হচ্ছে।

বিশেষ করে বাজার এলাকাগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্থাপনা অক্ষত রেখে রাস্তার প্রশস্ততা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অর্থ লেনদেনের গুঞ্জনও রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি ও বাস্তবেও দেখা মিলেছে এমন পরিস্থিতি যে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্থাপনা অক্ষত রাখার স্বার্থে বিপরীত পার্শ্বের খালের কোন কোন যায়গায় নিয়মবহির্ভূত ভাবে ভরাট করে খাল সংকীর্ণ বা সরু করে পেলা হচ্ছে। যা আগামী দিনে এ অঞ্চলের পানিবন্দিতার ও ব্যাপক বন্যার কারনে জনভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে এলাকাবাসীর চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া রাস্তা খননের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত গভীরতা অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বালুর সঙ্গে কংক্রিট বা উপযুক্ত উপকরণ মিশিয়ে রোলার করার কথা থাকলেও অনেক স্থানে শুধু বালু ফেলে নামমাত্র রোলার চালানো হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে রাস্তা ডেবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

দ্বিতীয় প্যাকেজে, জালাল মিয়ার ব্রিজ থেকে লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল পর্যন্ত কাজেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাটি ক্রয় করে তা রোলার ও কমপ্যাকশন সম্পন্ন করার কথা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে আগে থেকেই থাকা মাটি কেটে অন্য জায়গায় ভরাট করা হচ্ছে। যথাযথ কমপ্যাকশন ছাড়াই পরবর্তী ধাপের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া নির্ধারিত গভীরতায় বক্স কাটার নিয়ম থাকলেও অনেক স্থানে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। বক্স কাটার পর প্রয়োজনীয় বেড প্রস্তুত ও রোলারিং না করেই নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী স্তরভিত্তিকভাবে মোটা বালু ফেলে পানি দিয়ে পর্যাপ্ত রোলার ও কমপ্যাকশন করার কথা থাকলেও বাস্তবে বড় ট্রাকে বালু ফেলে নামমাত্র রোলার চালিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্যমতে, শুরু থেকেই যদি নির্মাণকাজে এত অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। তাদের মতে, নির্মাণ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দায়িত্বশীল সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তারা বলেন, ‘ঠিকাদার কে-সেটি আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা শুধু চাই জনগণের টাকায় নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ সিডিউল অনুযায়ী ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হোক।’

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *