নিজস্ব প্রতিনিধি :
বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নাম জড়িয়ে প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. বেল্লাল হোসেন। এসব প্রচারণাকে ‘অপপ্রচার’ দাবি করে তিনি ঘটনার প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (৮ আগষ্ট) এক প্রতিবাদ বার্তায় এম. বেল্লাল হোসেন বলেন, তাকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এম. বেল্লাল হোসেনের দাবি, গত বুধবার রাতে তার ভাতিজা রিয়াজ হোসেন বশিকপুরে বড় বোনের বাসা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে ডোম বাড়ির পাশে কয়েকজন ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে একটি বাগানে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা রিয়াজের কাছ থেকে জোরপূর্বক মাদক থাকার স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে লাঠি, লাইট ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় রিয়াজের মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
পরে অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে রিয়াজকে পদ্মার বাজার পুলিশ ইনচার্জের কাছে ‘মাদক উদ্ধার হয়েছে’ দাবি করে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান বিএনপি নেতা। পুলিশ আহত রিয়াজকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
‘হামলাকারীরাই মাদক ব্যবসায়ী’
এম. বেল্লাল হোসেন দাবি করেন, রিয়াজের ওপর হামলাকারীরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় তারা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
‘আমাকে ও দলকে হেয় করার চেষ্টা’
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে জড়িয়ে প্রচারণার বিষয়ে এম. বেল্লাল হোসেন বলেন, একটি বিশেষ মহল রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাকে এবং তার দলকে হেয় করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা তাকে উদ্দেশ্য করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন।
ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার জন্য জনসাধারণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।
পুলিশের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য
এদিকে পুলিশের দেওয়া বক্তব্যে ঘটনাটি সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াজ হোসেনের কাছ থেকে পুলিশ সরাসরি কোনো মাদক উদ্ধার করেনি।
পুলিশ জানায়, রিয়াজকে যারা আটক করেছিলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। ফলে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলা বা তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশের এই বক্তব্যের পর রিয়াজকে কারা আটক করেছিলেন, কেন তাকে মারধর করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের দাবির ভিত্তি কী—এসব বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তদন্তেই বেরিয়ে আসবে প্রকৃত ঘটনা
রিয়াজ হোসেনের ওপর হামলা, তাকে আটকে রাখার অভিযোগ এবং মাদক-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও আইনগত প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক : অধ্যক্ষ মো. আবদুন নুর,
তৃতীয় তলা, নওশাদ মঞ্জিল, ঢকা - রায়পুর রোড, লক্ষ্মীপুর সদর, লক্ষ্মীপুর।
ইমেইল: abdunnur9051@gmail.com, ফোন: ০১৮২০-০৮৯০৫১
Copyright © 2026 দৈনিক সময়ের নুর. All rights reserved.