নিজস্ব প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ফোর লেন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাভুক্ত ভূমিতে ইজারা নবায়ন এবং সরকারি শর্ত কার্যকর না থাকায় চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার এলাকায় সড়ক বিভাগের জমিতে দোকানপাট এখনো বহাল রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় সড়ক প্রশস্তকরণ, রিজিড পেভমেন্ট, হার্ড শোল্ডার, আরসিসি বক্স কালভার্ট, ফুটওভার ব্রিজ, বাস-বে, সাইড রোড, ডিভাইডার, ড্রেন এবং অন্যান্য সড়ক নিরাপত্তামূলক অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে।
এদিকে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ইজারা সংক্রান্ত শর্তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মহাসড়ক সংস্কার, মেরামত, সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ বা উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনে ৬০ দিনের নোটিশে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ইজারা বাতিল করা যাবে।
অথচ জনচলাচলের জন্য ইজারা এনে উক্ত স্থানে ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে৷ এ বিষয়ে ইজারা গ্রহীতা চন্দ্রগঞ্জ নিউ মার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব শর্ত থাকা সত্ত্বেও চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার এলাকায় সড়ক বিভাগের জমিতে বহু দোকানপাট এখনো দখল অবস্থায় রয়েছে। ফলে ফোর লেন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, ভূমি উদ্ধার কার্যক্রম এবং সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যদি ওই জমির প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি নীতিমালা অনুসারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ইজারাকৃত ভূমির বর্তমান অবস্থা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং ভূমি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে বাজার এলাকায় আরসিসি সড়ক নির্মাণের জন্য নির্ধারিত পরিমাপে জায়গা না নিয়ে প্রভাবশালী মহলের সাথে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে অবৈধ দখলদাররা।
এতে একদিকে সড়ক প্রশ্বস্তকরণ নিয়ম অনুযায়ী বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অপরদিকে সড়ক নির্মাণের পর জনচলাচলের জন্য ফুটপাতের জায়গা নেই। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ফুটপাতের জন্য আলাদা জায়গা না নিলে জনদুর্ভোগ বাড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুরুজ্জামান চন্দ্রগঞ্জে অবৈধ দোকানপাটের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালায়।
ওই সময় চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারের রাস্তার দুপাশে সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট ভেঙ্গে দেয় প্রশাসন। তখন পশ্চিম বাজারস্থ যাত্রীছাউনি হতে পূর্ব দিকে গড়ে ওঠা সব দোকানপাট ভেঙ্গে দেওয়া হয়।
পরে একটি মহল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পুনরায় এসব অবৈধ দোকানপাট পুননির্মাণের সুযোগ দেয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি৷
প্রকাশক ও সম্পাদক : অধ্যক্ষ মো. আবদুন নুর,
তৃতীয় তলা, নওশাদ মঞ্জিল, ঢকা - রায়পুর রোড, লক্ষ্মীপুর সদর, লক্ষ্মীপুর।
ইমেইল: abdunnur9051@gmail.com, ফোন: ০১৮২০-০৮৯০৫১
Copyright © 2026 দৈনিক সময়ের নুর. All rights reserved.