নিজস্ব প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজারসংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা খাল অবৈধভাবে দখলের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা (Suo Moto) রুজু করেছেন চন্দ্রগঞ্জ আমলী আদালতের বিচারক (সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) মোহাম্মদ রেজাউল হক।
এ মামলায় বহুল আলোচিত চন্দ্রগঞ্জ নিউমার্কেট থেকে গরুহাটা এবং গরুহাটা থেকে বাঁধের গোড়া পর্যন্ত খালের দক্ষিণ পাশে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম খালটি দখল করে খালের প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর একটি দৈনিক ও কয়েকটি অনলাইনে প্রতিবেদনে এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তা আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়।
এরপর গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আদালতের পক্ষে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল হক আমলী অঞ্চল, চন্দ্রগঞ্জ আদালতে বিবিধ মামলা নং- ০১/২০২৫ এর অনুকূল মামলাটি রুজু করেন।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় গৌতম চন্দ্র মজুমদার, হাজী সৈয়দ আহম্মদ, নিজাম উদ্দিন,সমীর দেবনাথ, জিল্লাল, সুমনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি যৌথভাবে মূল খালের দু’পাড় সংযুক্ত করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছেন।
যাহা ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৪(১) (ক), ৭, ১১ ও ১২ ধারার সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এমতাবস্থায়, আদালত উক্ত সংবাদদাতাদের সাক্ষ্য গ্রহণের পাশাপাশি সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর দপ্তরের মাধ্যমে যাচাই করার নির্দেশ দেন যে, সরকার থেকে অভিযুক্তদের নামে কোনো বৈধ ইজারা প্রদান করা হয়েছিল কি-না এবং থাকলে তার মেয়াদ এখনো বহাল আছে কি না।
একই সঙ্গে সিআইডি, লক্ষ্মীপুরের বিশেষ পুলিশ সুপারকে ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত করে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় উদঘাটনপূর্বক আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ২১ অক্টোবর এ মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে আদালতের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দীর্ঘদিন থেকে ভোগান্তির স্বীকার চন্দ্রগঞ্জ বাজারের সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা ও সচেতন মহল।