নিজস্ব প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজারে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। দেশী টাকা মিলছে এক ড্রয়ারেই এক কোটি পনের লক্ষ।
সোমবার (১২ মে) সকালে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), সেনাবাহিনী ও চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চন্দ্রগঞ্জ বাজারের ‘শ্রী শ্রী নিতাই গৌরী বস্ত্রালয় এন্ড গার্মেন্টস’ (স্থানীয়ভাবে পরিচিত বলরাম বাবুর দোকান) এবং ‘আল মদিনা বস্ত্রালয়’-এর আড়ালে অবৈধভাবে বিদেশি মুদ্রা লেনদেন চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দুটি দোকান থেকে বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করা হয়, যা বাংলাদেশের মুদ্রামানে ৪৮ লাখ, ৫হাজার, ৯শত ১০ টাকা।
তার মধ্যে বলরাম দেবনাথ থেকে ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯১০ টাকা ও আল মদিনা বস্ত্রালয় থেকে ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
এছাড়াও বলরাম দেবনাথের দোকানের একটি ড্রয়ারেই মিলেছে এক কোটি পনের লক্ষ দেশী টাকা। যদি ও দেশীয় টাকায় গুলো শেষ পর্যন্ত ফেরৎ দেয়া হয়েছে।

ফেরৎ দেয়া এক কোটি পনের লাখ টাকা
অভিযানে শ্রী শ্রী নিতাই গৌরী বস্ত্রালয় এন্ড গার্মেন্টসের খোকন দেবনাথ এবং আল মদিনা বস্ত্রালয়ের ইব্রাহিম খলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ মুদ্রা লেনদেনের অভিযোগ ছিল। আজকের অভিযানে তা প্রমাণিত হয়েছে। আমরা চক্রের পেছনে থাকা মূল হোতাদেরও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।
ক্যাপ্টেন মোঃ রাহাত জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি, এই মুদ্রাগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কিভাবে লেনদেন হতো—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বর্ণ বন্ধকী ও জুয়েলারী এবং বস্র ব্যবসার আড়ালে অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। লাইসেন্স বিহীন অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীরা প্রতি দিন ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা ক্রয় করছে। প্রতি মাসে শতকোটি টাকার বেদেশি মুদ্রা ক্রয় করে ফুলে-ফেঁপে ওঠেছে তারা।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজধ কাপড় দোকানীর কাছে নগদ কোটি কোটি টাকা থাকা কেন প্রয়োজন হয় । এই নগদ টাকা রাখার আইনী যৌক্তিকতা ও ক্ষতিয়ে দেখা সময়ের দাবী।